কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এ জুডো প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে ইতিহাস গড়লেন ২৩ বছরের অস্মিতা দে। মহিলাদের ৪৮ কেজি বিভাগের ফাইনালে কানাডার হেইডি কোয়াচকে গোল্ডেন স্কোর পর্বে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য জুডোতে ভারতকে সোনা এনে দিলেন তিনি।
টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র সাত মাস আগে বাবা মারা যাওয়ায় গভীর মানসিক আঘাত ও চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছিল দক্ষিণ ত্রিপুরার বেলোনিয়ার ভাড়া বাড়িতে থাকা অস্মিতার পরিবার। তাঁর বাবা বেলোনিয়ায় একটি সাইকেল সারানোর দোকান চালাতেন এবং মেয়ের অনুশীলনের খরচ চালাতে ১ লক্ষ টাকার ঋণও নিয়েছিলেন। বাবার মৃত্যুর পর মা মুন্না পাত্রী দে ও ভাই দেবব্রত দে-কে নিয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হন অস্মিতা। তবে সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে বাবার স্বপ্নই সত্যি করলেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে ৮০০ মিটার দৌড়বিদ হিসেবে ক্রীড়াজীবন শুরু করলেও কোচের পরামর্শে জুডোতে আসেন অস্মিতা। ২০১৩ সালে বেলোনিয়ায় কোচ বিনা দেবনাথের অধীনে প্রশিক্ষণ শুরু করেন এবং কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে তোলেন। এর আগে ২০২৩ সালে জুনিয়র এশিয়া কাপ এবং কাসাব্লাঙ্কা আফ্রিকান ওপেনেও সোনা জয়ের কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। মেয়ের এই ঐতিহাসিক সাফল্যে পরিবারে আনন্দের জোয়ার এলেও বাবার অনুপস্থিতি তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে।
কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় সোনা জয় অস্মিতা দে-এর