রাজ্যে রক্ত এবং প্লাজমা বিক্রি নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতেই এবার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল স্বাস্থ্য ভবন। সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত ব্লাড ব্যাঙ্কের কার্যক্রমের উপর নজরদারি বাড়াতে এবং 'বাল্ক ট্রান্সফার' বা একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ রক্ত ও প্লাজমা স্থানান্তরের বিষয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক বা রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরকে না জানিয়ে কোনোভাবেই বিপুল পরিমাণ রক্ত বা প্লাজমা বিক্রি করা যাবে না।রক্ত বা প্লাজমা পাঠানোর অন্তত সাত দিন আগে প্রেরক, গ্রাহক, রক্তের গ্রুপ এবং ইউনিটের সংখ্যাসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য রাজ্য ব্লাড ট্রান্সফিউশন কাউন্সিলকে জানিয়ে অনুমতি নিতে হবে।ভিনরাজ্যে অবৈধভাবে রক্ত পাচার করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা অর্জনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই কলকাতা সহ রাজ্যের মোট ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতার নামী কর্পোরেট হাসপাতাল 'কোঠারি মেডিক্যাল সেন্টার'-এর ব্লাড ব্যাঙ্কও।
স্বাস্থ্য ভবনের অভিযোগ, গত ৭ মাসে বিভিন্ন রক্তদান শিবির থেকে কোঠারি ব্লাড ব্যাঙ্ক ৪২,৩৬৭ ইউনিট রক্ত সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৫,১২৫ ইউনিট প্লাজমা ৪টি ভিন্ন ওষুধ সংস্থাকে বিক্রি করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। স্বাস্থ্য ভবনের সন্দেহ, অতিরিক্ত প্লাজমা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছিল।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই সমস্ত ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে রক্তদান শিবির আয়োজনের মাধ্যমে রক্ত সংগ্রহ করার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষ যদি সরাসরি ব্লাড ব্যাঙ্কে এসে স্বেচ্ছায় রক্তদান করতে চান, কেবল সেই রক্তই গ্রহণ করা যাবে। বর্তমানে এই ঘটনার সমস্ত তথ্য ও নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে স্বাস্থ্য দফতর।
রক্তের যথেচ্ছাচার রুখতে কড়া পদক্ষেপ স্বাস্থ্য ভবনের, ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর নিষেধাজ্ঞা