মধ্যমগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্যজুড়ে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে হাড়হিম করা তথ্য—এটি সাধারণ কোনো অপরাধ নয়, বরং অত্যন্ত পেশাদার ও সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক খুন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মধ্যমগ্রামে মাত্র ৫০ সেকেন্ডের মধ্যে এই হামলা চালানো হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পরিকল্পনামাফিক রাস্তা আটকে চন্দ্রনাথবাবুর স্করপিও গাড়ি দাঁড় করানো হয়। এরপর বাইকে আসা প্রশিক্ষিত সুপারি কিলার ও শার্প শ্যুটাররা গাড়ি ঘিরে ১০ রাউন্ডের বেশি গুলি চালায়। গাড়ির কাচ কালো ফিল্মে ঢাকা থাকা সত্ত্বেও আততায়ীরা ঠিক যেদিকে চন্দ্রনাথবাবু বসেছিলেন, সেই দিকটিকেই নিশানা করে। তাঁর বুকে একাধিক গুলি লাগে।
তদন্তকারীদের মতে, চন্দ্রনাথবাবুর প্রতিদিনের যাতায়াত, রুটিন এবং গাড়িতে বসার স্থান সম্পর্কে নিখুঁত তথ্য ছিল হামলাকারীদের কাছে। গাড়িটিতে চালক থাকলেও তাঁদের লক্ষ্য করা হয়নি, যা প্রমাণ করে যে হামলাটি ছিল সুনির্দিষ্ট। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড বলে অভিযোগ করেছেন এবং এর পিছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেছেন। বিজেপি নেতৃত্বও এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
খুনের পর অপরাধীরা বাইক নিয়ে দ্রুত চম্পট দেয়। এই পেশাদার খুনিদের কে বা কারা ভাড়া করেছিল এবং এই ঘটনার নেপথ্যে আসল মাস্টারমাইন্ড কে, তা খুঁজে বের করতে মোবাইল টাওয়ারের ডেটা ও সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক খুন: পেশাদার খুনিদের ভাড়া করল কারা?