বাঙালির চিরকালীন আবেগ, বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তম কুমারের ৪৭তম প্রয়াণবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন দক্ষিণ কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে—যেখানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল—উপস্থিত হয়ে মহানায়কের আবক্ষ মূর্তি ও স্মারকফলক উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী। মাল্যদানের মাধ্যমে কিংবদন্তি অভিনেতার স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান তিনি।
এই শ্রদ্ধা জ্ঞাপন অনুষ্ঠান থেকেই বাংলা সিনেমার আইকন উত্তম কুমারের স্মৃতি সংরক্ষণে একাধিক বড় পদক্ষেপের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিন ধরে অত্যন্ত ধুমধামের সঙ্গে মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উদযাপিত হবে। এই উৎসবের রূপরেখা তৈরির জন্য শীঘ্রই রবীন্দ্রসদনে একটি প্রস্তুতি সভা ও কমিটি গঠন করা হবে।
এছাড়াও, সংস্কৃতির প্রসারে উত্তম কুমারের নামে একটি অত্যাধুনিক 'ফিল্ম সেন্টার' ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে ঐতিহ্যবাহী 'উত্তম মঞ্চ'-এর সংস্কার ও আধুনিকীকরণের কাজ দ্রুত শুরু হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, পরিবারের সম্মতি নিয়েই এই সমস্ত উন্নয়নমূলক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগগুলি রূপায়ণ করা হবে।
এদিনের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে উপস্থিত ছিলেন উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যেরা এবং ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত সহ চলচ্চিত্র জগতের বহু বিশিষ্ট শিল্পী ও গুণগ্রাহী। কেওড়াতলার কর্মসূচির পর মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুরে মহানায়কের বাসভবনে গিয়েও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। মহানায়কের প্রয়াণ দিবসে রাজ্য সরকারের এই শ্রদ্ধা ও আকর্ষণীয় ঘোষণাগুলি বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রতি এক বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মহানায়কের প্রয়াণ দিবসে কেওড়াতলায় শ্রদ্ধা নিবেদন মুখ্যমন্ত্রীর, একগুচ্ছ নতুন ঘোষণা