প্রায় দু'দশক বা ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিন পর আগামী ১ অগাস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসছেন বিতর্কিত ও নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। ‘সেকুলার মিশন’ নামক একটি সংগঠনের আমন্ত্রণে তাঁর এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই সাহিত্য ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ঠিক তার আগের দিন, অর্থাৎ ৩১ জুলাই প্রেক্ষাগৃহে পুনরায় মুক্তি পাচ্ছে চূর্ণী গাঙ্গুলী পরিচালিত জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি ‘নির্বাসিত’। পরিচালক স্পষ্ট করেছেন, ছবিটি তসলিমার বায়োপিক না হলেও একজন দেশছাড়া লেখকের নিঃসঙ্গতা এবং ভিটেমাটির টান এর মূল সুর। বহু বছর পর কলকাতার মাটিতে বসে এই ছবি দেখা তাঁর কাছে এক গভীর আবেগের মুহূর্ত হতে চলেছে।
তবে এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও তুঙ্গে উঠেছে। অনেকের মতে, এই সফর কেবল সাহিত্যিক পুনর্মিলন নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। বিশেষ করে বিরোধী দল বিজেপি অতীতে তসলিমাকে ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করায় এবং আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর একটা আলাদা তাৎপর্য রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনীতির কারবারিরা। অন্যদিকে, এই সফর নিয়ে সমালোচনাকারীদের এক হাত নিয়েছেন তসলিমা নিজেই। ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি প্রগতিশীল সংগঠন আমন্ত্রণ জানিয়েছে এবং রাজ্য সরকার কেবল নিয়মমাফিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করছে। তসলিমার ক্ষোভ, তাঁকে নিয়ে কিছু বাম নেতা অপ্রয়োজনীয় মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন এবং তাঁর এই দুদিনের কলকাতাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক রঙ লাগানোর চেষ্টা হচ্ছে। দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে তাঁর এই ফেরা শেষ পর্যন্ত বাংলার সংস্কৃতি ও রাজনীতির আঙিনায় কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
১৮ বছর পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন, ফিরে আসছে ছবি ‘নির্বাসিত’