কুড়ি বছর পর কলকাতায় ফিরে তসলিমা নাসরিন: শেকড়ের টান ও না পাওয়ার বেদনা
দীর্ঘ কুড়ি বছর পর সম্প্রতি কলকাতায় ফিরেছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এক বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাঁর এই আগমন। এই দীর্ঘ ব্যবধানে কলকাতায় ফেরা নিয়ে আনন্দ ও বেদনার মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর মতে, এটি যেন দীর্ঘ অনাহার ভাঙার মতো, যেখানে বাংলা ভাষা, পরিচিত রাস্তাঘাট ও মানুষের ছোঁয়া পাওয়ার তীব্র ক্ষুধা কাজ করেছে। তবে তাঁর হারিয়ে যাওয়া উনিশটি বছর আর ফিরে আসবে না।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, কেবল নির্বাচন বা সরকার বদল হলেই গণতন্ত্র আসে না। ধর্মনিরপেক্ষতা, আইনের শাসন এবং নারীর সমানাধিকার নিশ্চিত করাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। শেখ হাসিনার দেশত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্য কাউকে দেশ ছাড়তে দেখলে তাঁর নিজের নির্বাসনের পুরনো ক্ষতটি আবার জেগে ওঠে। বর্তমানে বৈধ পাসপোর্টের অভাবে তাঁর নিজের দেশে ফেরা অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
এবারের এই সফরে এসে তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি আক্ষেপ করে জানান যে, অতীতে যখন তাঁকে কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল, তখন বাংলার বহু বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও কবি সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। তাঁর মতে, একজন নারী হওয়ার কারণে সমাজে তাঁকে অনেক বেশি সমালোচনার শিকার হতে হয়েছে।
নারীবাদী ভাবনা ও লেখালেখি প্রসঙ্গে তসলিমা স্পষ্ট জানান, নারীর যৌনতা কিংবা অন্যান্য সামাজিক সমস্যা নিয়ে লেখার মধ্য দিয়ে তিনি সবসময় নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম বা 'জেন জি' আন্দোলন নিয়ে তাঁর মন্তব্য, সরকার ফেলে দেওয়া তুলনামূলক সহজ হলেও একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন কাজ। প্রবাসের মাটিতে বসে বাংলাদেশের ইলিশ খাওয়ার সময়ও তাঁর মন দেশ হারানোর কষ্টে ভারী হয়ে ওঠে।
প্রায় কুড়ি বছর পর কলকাতায় ফিরে তসলিমা নাসরিন: শেকড়ের টান ও না পাওয়ার বেদনা