দারিদ্র্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাফল্যের এক অনন্য নজির গড়লেন ঝাড়গ্রামের প্রত্যন্ত বেলপাহাড়ির জাড়দা গ্রামের যুবক দেবকুমার সিংহ। বাড়ি বাড়ি ঘুরে বাসন বিক্রি করে সংসার চালানো বাবার সামান্য উপার্জনের ওপর ভর করেই তিনি আজ পৌঁছেছেন খড়গপুর আইআইটির মতো দেশের শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।
২৫ বছর বয়সি দেবকুমার খড়গপুর আইআইটির 'সেন্টার ফর রুরাল ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ইনোভেটিভ সাসটেইনেবল টেকনোলজি' (CRDIST)-তে গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর এই আইআইটিতে ভর্তির দিনে সঙ্গে ছিলেন বাবা লক্ষ্মীকান্ত সিংহ ও মা রিনা সিংহ। দেবকুমারের এই সাফল্যে গোটা জাড়দা গ্রাম তথা বেলপাহাড়ি জুড়েই এখন খুশির হাওয়া।
লক্ষ্মীকান্ত বাবু দীর্ঘদিন ধরে গ্রামে গ্রামে ঘুরে অ্যালুমিনিয়ামের বাসন বিক্রি করেন। সেই সীমিত আয়েই তিনি তিন সন্তানের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ চালিয়েছেন। দেবকুমার ছাড়াও তাঁর ছোট ছেলে প্রদ্যুৎ কুমার সিংহ গত বছরই মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।
গ্রামের জাড়দা প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শুরু করে মুড়ারী এসসি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন দেবকুমার। এরপর হলদিয়া গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে ভূগোলে স্নাতক এবং কলকাতার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তাঁর এই পথচলায় শিক্ষক অচিন্ত্য সরকারের অবদান রয়েছে বলে জানান দেবকুমার। গ্রামীণ সমাজের উন্নয়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিয়ে কাজ করাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।
মেধার কাছে দারিদ্র্য কখনোই বাধা নয় তা আবারও প্রমাণ করে দেখালেন ঝাড়গ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামের যুবক