আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’র মৃত্যুর পর দেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে। দীর্ঘদিন ধরে অভয়ার পরিবার দাবি করে আসছিল, মৃত্যুর পর দেহ হাসপাতাল থেকে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া এবং দ্রুত দাহের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী ভূমিকা ছিল নির্মল ঘোষের।
অভয়ার বাবার দায়ের করা এফআইআর-এও নির্মল ঘোষের নাম উল্লেখ ছিল। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের যথাযথভাবে না জানিয়ে তড়িঘড়ি দেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং স্বাভাবিক নিয়মের আগেই শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলেও অভিযোগ উঠেছিল।
তদন্ত চলাকালীন শ্মশান কর্মীদের বয়ানেও দ্রুত দাহের বিষয়টি উঠে আসে। এরপরই নতুন করে জোরদার হয় তদন্ত। অভয়ার মা-বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিকবার নির্মল ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। যদিও এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল পরিবার।
সম্প্রতি পানিহাটিতে অভয়ার স্মরণসভায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেহ সৎকার সংক্রান্ত গোটা ঘটনাটির পুনর্তদন্তের ঘোষণা করেন। তিনি প্রকাশ্য সভা থেকেই ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটকে নতুন মামলা রুজু করে নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেন এবং জানান, ঘটনায় জড়িত কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
তার কয়েকদিনের মধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন নির্মল ঘোষ। উল্লেখযোগ্যভাবে, গত ১৩ জুলাই তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষও পৃথক মামলায় গ্রেফতার হয়েছিলেন। নির্মল ঘোষের গ্রেফতারির ফলে অভয়াকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড় এল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন নজর, জিজ্ঞাসাবাদে আর কী তথ্য সামনে আসে এবং দেহ দ্রুত দাহের অভিযোগের নেপথ্যে আরও কারও ভূমিকা প্রকাশ্যে আসে কি না।
গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, অভয়া মামলায় বড় মোড়