অভাব আর প্রতিকূলতা যতই হোক, মনের জোর থাকলে যে সমস্ত বাধাই জয় করা সম্ভব, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উত্তর প্রদেশের মঈন আনসারি। সাধারণ এক বাসচালকের ছেলে থেকে তাঁর আইএএস অফিসার হয়ে ওঠার পথটি একেবারেই সহজ ছিল না।
মঈনের বাড়ি উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার জাতপুরা গ্রামে। তাঁর বাবা ছিলেন চুক্তিভিত্তিক বাস চালক। পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি থাকায় এবং আয়ের কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় মঈনের পড়াশোনার খরচ চালানো অত্যন্ত কঠিন ছিল। একসময় আর্থিক অনটনের জেরে তাঁকে সাধারণ স্কুলেও পাঠাতে হয়। দ্বাদশ শ্রেণিতে ভালো ফল করতে না পারায় তাঁকে সমাজের নানান কটূক্তিও শুনতে হয়েছিল।
তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির কাছে হার মানেননি মঈন। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতের টিউশনের টাকা জোগাতে তাঁর মা জমানো অর্থ দিয়ে সাহায্য করেন। এই সময় তিনি দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন। পড়াশোনা শেষে তাঁর প্রথমে ক্রিকেটার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়। এরপর পরিবারে সচ্ছলতা আনতে তিনি গ্রামে একটি সাইবার ক্যাফেও চালু করেছিলেন। এই সময়েই তাঁর মনে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার আগ্রহ জন্মায়।
দিল্লিতে এসে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করলেও প্রথম দেড় বছরের মধ্যে তাঁর জমানো সমস্ত টাকা শেষ হয়ে যায়। এমনকি তিনি পরপর তিনবার এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হন। এই কঠিন সময়ে পরিচিত ও আত্মীয়স্বজনরা তাঁকে দিনমজুর বা কায়িক শ্রমের কাজ করার পরামর্শ দেন। কিন্তু কারোর কথায় কান না দিয়ে তিনি নিজের ভুলগুলো সংশোধন করে চতুর্থবার ময়দানে নামেন।
অবশেষে ২০২২ সালের ইউপিএসসি পরীক্ষায় ২৯৬ র্যাঙ্ক অর্জন করে তিনি নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেন। সমস্ত কটূক্তির জবাব দিয়ে তিনি আজ পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের একজন সফল আইএএস অফিসার। মঈনের এই জীবনসংগ্রাম আমাদের শিখিয়ে দেয় যে, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রম থাকলে কোনো বাধাই জয়ের পথে বাধা হতে পারে না।
বাস ড্রাইভারের ছেলের IAS হওয়ার অবিশ্বাস্য লড়াই, অভাবকে জয় করে মঈন আনসারির সাফল্যের গল্প