নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। দিনহাটার একটি কর্মসূচিতে তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজ ও নেতাজির ভূমিকা নিয়ে মন্তব্য করার পর থেকেই রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বিরোধীদের পাশাপাশি বিজেপির অন্দরেও এই মন্তব্য নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি।
বিতর্কের আবহে নবান্ন থেকে কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান, নেতাজিকে অবমাননা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সেই সতর্কবার্তার পরেও অনন্ত মহারাজ নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি বলে জানা গিয়েছে।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি অনন্ত মহারাজকে প্রদান করা ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান প্রত্যাহার করা হয়েছে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের জারি করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সম্মান প্রদানের পর এমন কিছু তথ্য ও পরিস্থিতি সামনে এসেছে যা ওই সম্মানের মর্যাদা, উদ্দেশ্য এবং গুরুত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সরকারি নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেছে যে অনন্ত মহারাজের ক্ষেত্রে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান বহাল রাখা আর সম্মানের মর্যাদার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। সেই কারণেই অবিলম্বে সম্মানটি প্রত্যাহার ও বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর ফলে অনন্ত মহারাজ আর নিজেকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রাপক হিসেবে পরিচয় দিতে পারবেন না। পাশাপাশি, এই সম্মানের ভিত্তিতে কোনও বিশেষ স্বীকৃতি, অধিকার বা সুবিধাও দাবি করতে পারবেন না। সরকারি নথি ও বঙ্গবিভূষণ প্রাপকদের তালিকা থেকেও তাঁর নাম অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নেতাজিকে ঘিরে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
নেতাজী বিতর্কে কড়া বার্তা রাজ্যের, বঙ্গবিভূষণ হারালেন অনন্ত মহারাজ