রাজ্যের চলচ্চিত্র জগতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার টলিউডের বিশিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজনৈতিক সমাবেশ বা দলের কর্মসূচিতে চলচ্চিত্র জগতের তারকাদের উপস্থিতি আর বাধ্যতামূলক নয়।
ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ, মিঠুন চক্রবর্তী, আবীর চট্টোপাধ্যায়-সহ টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ। চলচ্চিত্র শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়নের সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতির জগতকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগদান সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়, সেখানে কোনওরকম চাপ বা বাধ্যবাধকতার স্থান নেই। তিনি আরও জানান, ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অভ্যন্তরীণ কাজে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ যাতে না হয়, সেই বিষয়েও সরকার সতর্ক থাকবে।
রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে তারকাদের উপস্থিতি নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হলেও, মুখ্যমন্ত্রীর এই অবস্থান সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। টলিউডের শিল্পীদের অনেকেই এই বার্তাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বলে সূত্রের খবর।
চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলেও বৈঠকে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বাংলা চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করে তোলাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
তারকাদের রাজনৈতিক মঞ্চে উপস্থিতি আর বাধ্যতামূলক নয়: মুখ্যমন্ত্রী।